দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এত বড় হামলা আর হয়নি

প্রতিবেশি রাষ্ট্র ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছে পরাশক্তি রাশিয়া।মস্কোর স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে

ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে সেনা অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। এর কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা এবং

মিসাইল হামলা শুরু হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত হামলায় উভয় দেশের শতাধিক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর

ইউরোপের কোনো একটি দেশের ওপর আরেকটি দেশের এত বড় হামলা এই প্রথম। রাশিয়ার আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রায় ৪০ সেনাসহ

অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা। ওলেক্সি আরেস্টোভিচ নামে

ওই উপদেষ্টার বরাত দিয়ে এমন খবর জানিয়েছেন কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। এছাড়া রাশিয়ার আক্রমণে

কয়েক ডজন ইউক্রেনীয় নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও জানান জেলেনস্কির উপদেষ্টা। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জানি যে, ৪০ জনের বেশি (সেনা) নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। আমি ১০ জন বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির বিষয়েও অবগত।’ অন্যদিকে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে,

রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা একটি শহরে হামলা করার পর তা প্রতিহত করার সময় প্রায় ৫০ জন রাশিয়ান সৈনিকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলেছে তারা পাঁচটি রুশ বিমান ও একটি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে।ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে: “শান্ত থাকুন ও ইউক্রেনের রক্ষকদের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একাধিক খবর প্রকাশ করা হচ্ছে, যেখানে বলা হচ্ছে যে প্রতিবেশী দেশ বেলারুশের সেনারাও রাশিয়ার সেনাদের সাথে অভিযানে যোগ দিচ্ছে, অর্থাৎ ইউক্রেনের উত্তর দিক থেকেও এখন আক্রমণ হচ্ছে। বেলারুশ দীর্ঘদিন যাবত রাশিয়ার মিত্র। বিশ্লেষকরা এই ছোট দেশকে রাশিয়ার ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা মক্কেল রাষ্ট্র হিসেবে বলে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.