প্রধানমন্ত্রীর কানে পৌঁছাল সেই সোহেল রওশানার প্রে’মকাহিনী , তবে ঘরে পৌঁছাল উপহার

দেশে যখন চলছে মহামা’রী, নির্বাচন, হতাহতের ঘটনা অন্যদিকে পাওয়া গেল ভালবাসার টানে শা’রীরিক ও

মানবিক দিক থেকে সাবলীল ছে’লের বিয়ে শা’রীরিক প্রতিব’ন্দি রওশন নামের এক মহিলার। তাদের এলাকা হতে জানা যায়, দুজনের স’ম্প’র্ক নিয়ে

তাদের বাড়ীর কেউ মেনে নিচ্ছিল না। এক পর্যায়ে তারা নিজ দায়িত্বতে বিবাহ সম্পন্ন করে। স্ত্রী’ পঙ্গু হওয়া সত্বেও স্বামী সোহেল কাটিয়ে দিয়েছেন বছর থেকে বছর। প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর পৌঁছালে সে তাদের বিয়ে স’ম্প’র্কে

খুবই খুশি হন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকার সোহেল মিয়া পরিবারের অমতে বিয়ে করেন জন্মসূত্রেই দু-পা বিকলাঙ্গ রওশন আরাকে।১০ টাকার নোটে পাওয়া নম্বর থেকে

প্রে’মের শুরু আজ ১৫ বছর পেরিয়ে গেছে। প্রে’ম-ভালোবাসার স’ম্প’র্ক হয় নিত্যদিনের কথাবার্তায়। তারপর বিয়ে। তাদের স্ত্রী’দের পিঠে নিয়ে তাদের ১৫ বছরের সংসার

কে’টে গেছে। দৈনিক যুগান্তরে এ খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ময়মনসিংহের ত্রিশালের গুজিয়াম তানপাড়া গ্রামে সোহেল-রওশনের প্রে’মের কথা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তাদের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেয়ে

উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) আখতারুজ্জামান মো. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভালোবাসার উপহার হিসেবে অসহায় দম্পতির হাতে মিষ্টি, চকলেট ও ​​ফুল পৌঁছে দেন তিনি।এ সময় ইউএনও সোহেল মিয়া রওশন, রওশনের মা ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকার সমস্যার কথা শোনেন। তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে দম্পতির প্রে’মের গল্প এবং জীবিকা স’ম্প’র্কেও শুনেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাদের বসবাসের জন্য আবাসন, দোকানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে বলে আশ্বা’স দেন ইউএনও। সীমাহীন দুঃখও তাদের ভালোবাসার রঙ ধূসর করতে পারেনি। তাদের জীবন সংগ্রামের হার মানিয়ে নিয়েছে দুঃখ, ক’ষ্ট আর ভালোবাসার সব গল্প।সোহেল-রওশন দম্পতি বলেন, আম’রা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফোন পেয়েছি। আমা’র জীবনের সর্বোচ্চ পাওয়া এ ফোন।ডিসি সাহেব ফোন করলেন, উপজে’লা নির্বাহী অফিসার নিজে আমা’র বাসায় এসে খোঁজ নিলেন। দুঃখ-ক’ষ্টে বসবাস করলেও আজ যেন ফাগুনের ছোঁয়ায় আসছে নতুন বার্তা। এটি ১৫ বছর আগের মতো কঠিন বলে মনে হচ্ছে না। মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই। তিনি যদি আমাদের ঘর, আমাদের মেয়ের লেখাপড়া, জীবিকা-রক্ষা করেন- আমি তাকে সারাজীবন মনে রাখব। আমি তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কা’মনা করছি।

স্থানীয় আমিরাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, সোহেল-রওশনের প্রে’মের গল্প সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে। প্রধানমন্ত্রী তাদের জন্য উপহার পাঠিয়েছেন। আমি তাদের জন্য আমা’র সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা আখতারুজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ডিসি সাহেব সোহেল-রওশন দম্পতির খোঁজখবর নেন এবং ঘটনাস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আমি তাদের পক্ষ থেকে উপহার বিতরণ করেছি। তাদের সমস্যা চিহ্নিত করে রিপোর্ট পাঠাব। তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।

উল্লেখ্য, ১০ টাকায় পাওয়া নম্বর থেকে যে ভালোবাসার শুরু, তা আজ ১৫ বছর পেরিয়েছে। প্রে’ম-ভালোবাসার স’ম্প’র্ক হয় নিত্যদিনের কথাবার্তায়। মেয়েটি প্রথমে তার প্রে’মিককে জানায় সে শা’রীরিকভাবে অক্ষম।কিন্তু রাজশাহীর গোদাগাড়ীর সোহেল মিয়া, যিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে ভালোবাসার মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে পড়েন, বিয়ে করেন দুই পায়ে পঙ্গু রওশন আরাকে। তারপর থেকে সে ঘরের কাজকর্ম করে যাচ্ছে, এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং স্ত্রী’র সব দায়িত্ব পালন করছে।

ভালবাসার টানে সোহেল ও রওশন এর বিয়ে সারা ফেলেছে সমাজের প্রতিটি জায়গায়। প্রধানমন্ত্রীর ফোন আসায় তাদের জীবনের নতুন সময় যাবে মঙ্গলময়। জীবনে ভালো’ভাবে বেচে থাকার জন্যে সবসময় টাকার প্রয়োজন হয়না, প্রয়োজন হয় মনের মিল আছে এমন একজন মানুষের। তাদের এ বিয়েটি দেশ ও জাতির জন্যে ভালবাসার দৃষ্টান্তমূলক উদাহ’র’ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.