ডোবায় পড়ে থাকা ছেড়া জাল টান দিতেই বেড়িয়ে এল মাগুর মাছের ঝাক , মূহুর্তেই ভাইরাল ভিডিও!

বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট পুকুর-ডোবা। স্বল্পায়তনের এ পুকুর-ডোবাগুলোতে

সারা বছরই পানি থাকে না। এগুলোর অধিকাংশই হাজামজা অবস্থায় পড়ে আছে। একটু উদ্যোগ নিলেই পরিত্যক্ত এসব স্বল্পায়তনের জলাশয়গুলোতে

অতি সহজেই লাভজনকভাবে মাছ চাষ করা যায়। সাম্প্রতিক এক জরিপে জানা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ লাখ পুকুর ও ডোবা রয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে,

স্বল্প পরিসর বিশিষ্ট অগভীর পুকুর-ডোবাগুলো প্রচলিত রুইজাতীয় মাছ চাষের অনুপযোগী, কেননা ক্ষুদ্রায়তনের এ জলাশয়গুলোতে

সারা বছর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকার কারণে রুই জাতীয় মাছের স্বাভাবিক বর্ধন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। তাছাড়া এদের বৃদ্ধির হারও তুলনামূলকভাবে

কম হওয়ায় মাছের সার্বিক উৎপাদনের পরিমাণও চলে আসে প্রায় শূন্যের কোটায়। তাই মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বাণিজ্যিক সুবিধার দিক লক্ষ রেখে

এসব পুকুর-ডোবায় বিদেশি প্রজাতির দ্রুতবর্ধনশীল মাছ যেমন সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, মিররকার্প, নাইলোটিকা ও থাই সরপুঁটি (রাজপুঁটি) চাষের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ মাছগুলো দ্রুতবর্ধনশীল ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যেই এগুলো বাজারজাত করার মতো পরিপুষ্টতা অর্জন করে। উপরন্তু বিদেশি প্রজাতির এ মাছ খেতেও অত্যন্ত সুস্বাদু।

প্রতিকূল পরিবেশে অগভীর জলাশয়ে কম অক্সিজেনযুক্ত পানিতে এরা বেঁচে থাকতে পারে। তাছাড়া সব ধরনের প্রাকৃতিক খাবার ও সম্পূরক খাদ্য গ্রহণে অভ্যস্ত। সর্বোপরি, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এ মাছ চাষের জন্য খুবই অনুকূল। এছাড়া তুলনামূলক স্বল্প খরচে ও সহজ ব্যবস্থাপনায় চাষ করাও সম্ভব।

আধুনিক প্রযুক্তি সমন্বিত সুষ্ঠু চাষ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হলে স্বল্পায়তনের এসব পুকুর-ডোবায় চাষকৃত গ্রাসকার্প ও মিররকার্প অনধিক চার-পাঁচ মাসের মধ্যে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম এবং থাইসরপুঁটি (রাজপুঁটি) ২০০ গ্রাম ওজনে উন্নীত হয়ে থাকে। অপর এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, এসব পুকুর-ডোবায় পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় মাছ চাষ করে প্রতি শতাংশে উৎপাদন খরচ সর্বোচ্চ ১২০ টাকার বিনিময়ে ৩০০ টাকার মতো আয় করা সম্ভব।

এ ক্ষেত্রে খরচ বাদে প্রতি শতাংশে প্রকৃত আয় থাকবে সর্বনিম্নে ১৮০ টাকা। নিম্নে এ প্রজাতির মাছ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হলো- পুকুরের আয়তন ৫ থেকে ৪০ শতাংশ হতে পারে। এ ধরনের পুকুরের গভীরতা সাধারণত সাড়ে চার থেকে ৬ ফুট হয়ে থাকে। পোনা ছাড়ার আগে পুকুর নিয়মমাফিক প্রস্তুত করে নিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.