অমিক্রনের হানা, রেড জোনে ঢাকা ও রাঙামটি

দেশে করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ হানা দিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সরকার থেকে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে

সাথে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। সব শেষ গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচলেরও বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। এমত অবস্থায়

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই জেলাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রেড জোনের মধ্যে ঢাকা ও রাঙামাটি জেলা। এছাড়ও

দেশের আরও ৬টি জেলা রয়েছে হলুদ জোনের তালিকায়। সেই সাখে গ্রিন জোনের মধ্যে রয়েছে ৫৪টি জেলা। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে

খুবই কম সংখ্যক টেস্ট করার তালিকায় রয়েছে ২টি জেলা। এই খবরের সত্যতা জানতে বিডি২৪লাইভ থেকে যোগাযোগ করা হয় ঢাকা ও

রাঙামটি জেলা প্রশাসকের সাথে। রাঙামটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিডি২৪লাইভকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লিখিত ভাবে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। তবে আমরা সার্বিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি করোনা মোকাবেলায়। আমাদের সাথে সেনাবাহিনীর টিমও কাজ করছেন পাঠ পর্যায়ে।

জেলার হাসপাতাল ও জরুরি বিভাগগুলোকে আমারা অবগত করে রেখেছি। সব মিলিয়ে রাঙামাটি জেলা প্রস্তুত রয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে মুঠফোনে পাওয়া যায়নি।

তথ্য মতে, রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের হার ১২.৯০ শতাংশ। রাঙ্গামাটিতে করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ। এছাড়া হলুদ জোন বা মধ্যম ঝুঁকিতে আছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নাটোর ও রংপুর জেলা। আর সংক্রমণের গ্রিন জোন বা ক্ষীণ ঝুঁকিতে আছে ৫৪ জেলা।

অন্যদিকে পঞ্চগড় ও বান্দরবান জেলায় নমুনা পরীক্ষার হার খুবই কম হয়েছে। পূর্ববর্তী সাতদিনের চেয়ে গত সাত দিনে করোনা সংক্রমণ বেড়েছে ১৬৯.১২ শতাংশ। তবে এতে মৃত্যু হার কমেছে ২০ শতাংশ। প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে উন্মুক্ত স্থানে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ এবং গণপরিবহনে যাত্রী অর্ধেকসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রাদুর্ভাব ও সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণায় সভায় এই ১১ দফা নির্দেশনা জারির সিদ্ধান্ত হয়।

নির্দেশনাগুলো হলো- দোকান, শপিংমল ও বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা এবং হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব জনসমাগমস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা। অফিস-আদালতসহ ঘরের বাইরে আবশ্যিক মাস্ক ব্যবহার। বেস্তোরাঁয় খাবার খেতে এবং আবাসিক হোটেলে থাকতে হলে টিকা সনদ প্রদর্শন, ১২ বছরের ঊর্ধ্বের সব শিক্ষার্থীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত তারিখের পরে টিকা সনদ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া।

স্থলবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও বিমানবন্দরসমূহে স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো। ট্রেন, বাস এবং লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক সংখ্যক যাত্রী নেওয়া। সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের আবশ্যিক টিকা সনদ থাকা, বিদেশ থেকে আগত যাত্রীসহ সবাইকে বাধ্যতামূলক করোনা টিকা সনদ প্রদর্শন।

স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্ক পরার বিষয়ে দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায় ইমামগণের সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা, করোনার টিকা এবং বুস্টার ডোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রচার এবং উদ্যোগ গ্রহণ করা। উন্মুক্ত স্থানে সর্বপ্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সমাবেশ বন্ধ রাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.