শামীম ওসমানের সমর্থন পেতেই তৈমুরকে অব্যাহতি?

নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৈমুরের আলম খন্দকার। তিনি বিএনপির প্রতীক বা দলীয় প্রার্থী হিসেবে নয়, বরং

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর তার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলে নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন জমে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন,

তৈমুর আলম খন্দকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আসলে পুরো বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে তৈমুর আলম খন্দকার এর পিছনে রয়েছে এবং

এই নির্বাচন আসলে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধুমাত্র বিএনপির প্রতীক ধানের শীষ নেই। তবে

কেন নির্বাচনের আগে তৈমুর আলম খন্দকারকে বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নানামুখী আলাপ-আলোচনা এবং

গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছে, বিএনপি এটি করে ভুল করলো। আবার আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে,

এটি বিএনপির একটি রাজনৈতিক কূটকৌশল। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি এবং

বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা শামীম ওসমানের সমর্থন পেতেই তৈমুর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তৈমুর আলম খন্দকার যদি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতেন এবং

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেন, তাদের শামীম ওসমানের পক্ষে নৈতিক অবস্থান থেকে তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব হতো না।

কারণ শামীম ওসমানের সারাজীবনের রাজনীতিই হলো বিএনপি-জামাত বিরোধী রাজনীতি। বিএনপি-জামাতের বিরোধীতা করেই ওসমান পরিবার রাজনীতিতে টিকে আছেন। শুধু তাই নয়, পচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর জিয়াউর রহমান এবং বিএনপির রাজনীতির বিরোধীতা করে যারা আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রেখেছিল, তাদের মধ্যে নি:সন্দেহে ওসমান পরিবার অন্যতম।

সেই ওসমান পরিবারের একজন সদস্য কিভাবে বিএনপির একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেন? এই ঘটনা ঘটলে পুরো রাজনীতিতেই শামীম ওসমানের সর্বনাশ ঘটতো। এ কারণেই বিএনপি শামীম ওসমানের মন রক্ষা করতেই তৈমুর আলম খন্দকারকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এর ফলে শামীম ওসমানের সর্মথকরা যদি গোপনে বা আধা প্রকাশ্যে তৈমুর আলম খন্দকারকে সমর্থন করেন, তাহলে কেউ কিছু বলতে পারবে না। কারণ এই নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই এবং বিএনপির যিনি প্রার্থী ছিলেন, তাকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লড়াইয়ের রণভূমিতে পরিণত হয়েছে। কারণ সেলিনা হায়াৎ আইভী অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রার্থী এবং তিনবারের মেয়র হিসেবে তিনি এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়, প্রশংসিত। কিন্তু সেখানে যদি আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয় এবং আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকে, তাহলে সেলিনা হায়াত আইভীর জয় সুনিশ্চিত নয়।

আর এ কারণেই তৈমুর আলম খন্দকারকে দাঁড় করানো হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো তৈমুর আলম খন্দকার যখন প্রার্থী হন, তখন ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে টেলিফোন করেন এবং টেলিফোন করে তার প্রতি শুভ কামনা করেন। তাকে জনতার প্রার্থী হিসেবে অভিহিত করেন। পরবর্তীতে তারেক জিয়ার নির্দেশে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এই অব্যাহতির সমীকরণটি খুব সুস্পষ্ট। বিএনপি মনে করছে, বিএনপির প্রার্থী বা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ গ্রহণ করে নির্বাচন করার চেয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা অনেক সুবিধাজনক হবে।

এর ফলে যারা বিএনপিকে পছন্দ করেন না, কিন্তু সেলিনা হায়াত আইভীকে পরাজিত করতে চান, সেই ভোটগুলো সহজে তৈমুর আলম খন্দকার পাবেন। অন্যদিকে এই কৌশলের ফলে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন হবে নির্বাচনের মাঠে। যারা আওয়ামী লীগ করেন না বা যারা বিএনপি করেন না, কিন্তু নারায়ণগঞ্জের পরিবর্তন চান, তাদের জন্য তৈমুর আলম খন্দকারকে ভোট দেওয়াটা সহজসাধ্য হবে। সেই সমীকরণেই তৈমুর আলমকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.