৫ কারণে বেগম জিয়াকে বিদেশ যেতে দিতে রাজি নয় সরকার

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান আইন কাঠামোর মধ্যে

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া যদি বিদেশে

যেতে চান তাহলে পরে বর্তমান যে, বর্তমান শর্তযুক্ত জামিন সেটি তাকে গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে হবে এবং

নতুন করে জামিনের জন্য আবেদন করতে হবে জেলে গিয়ে। বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে

বাধা আইনগত -এটি বলছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তবে আইনগত বিষয়ের বাইরেও কিছু কিছু বিষয় আছে যে বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে

বিদেশ যেতে দিতে রাজি নয় সরকার। আর এই সমস্ত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: ১. আইনের সীমাবদ্ধতা: যেমনটি আইনমন্ত্রী বলছিলেন যে,

আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া কিছু শর্তের আওতায় জামিন নিয়েছেন এবং

তার যে জামিনের আবেদন সেটি নিষ্পন্ন হয়ে গেছে। কাজেই নতুন করে সেই আবেদন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাছাড়াও

বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যে মামলাগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতি দমন কমিশন দেখভাল করছে। কাজেই এ অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া হলে আইনের ঘোরতর ব্যত্যয় ঘটবে বলে সরকার মনে করছে।

২. স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যালোচনা: এভারকেয়ার হাসপাতালে গত ১৩ নভেম্বর থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিএনপির নেতাকর্মীরা যে ধরনের উদ্বেগের কথা বলছেন তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত এবং রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক বলে সরকার মনে করছে।

সরকার প্রায় প্রতি মুহূর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং বেগম খালেদা জিয়ার প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রয়েছে। কাজেই, তার অবস্থা এতটা গুরুতর নয়। বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে পরিস্থিতি হবে সেটি বিবেচনায় নিয়েই সরকার মনে করছে বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত হয়নি।

৩. রাজনৈতিক বিবেচনা: বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনাকে। সরকারের কাছে এরকম যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বেগম জিয়াকে বিদেশি নেয়া হলে তারেক জিয়া একটি প্রবাসী সরকারের ঘোষণা দিবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সরকারের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করবেন।

তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ গেলেই সেখান থেকে তিনি বা তার পক্ষে কেউ এক বিবৃতিতে দেবে যে বিবৃতিটি সরকারের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়া তারেক জিয়ার মতো বিদেশি থাকবেন, আর দেশে আসবেন না। এটি সরকারের জন্য আরেকটি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করবে।

বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলে কি করবেন, এটি সম্পর্কে সরকার যে অনুমানগুলো করছে তার প্রত্যেকটি অনুমানে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। আর এই কারণেই বেগম জিয়াকে এখন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দিতে রাজি নয় সরকার।

৪. বিএনপির মনোভাব: বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির মনোভাবও সরকারকে দ্বিধান্বিত করেছে। বিএনপি যেভাবে সরকার পতনের কথা ঘোষণা দিচ্ছে, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার জন্য বিএনপি দেন-দরবার করবে, আবেদন-নিবেদন করবে। কিন্তু তা না করে তারা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন নীতিনির্ধারক বলেছেন, হুমকি দিয়ে ভিক্ষা আদায় করা যায় না। তাই বিএনপির মনোভাব সরকারের নেতিবাচক অবস্থানের অন্যতম একটি কারণ।

৫. বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা: রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া যদি দেশে অসুস্থ অবস্থায় থাকে তাহলে বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেকটা সহজ হবে। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ আস্তে আস্তে জাতীয় পার্টির মত বানাতে চায়। এরশাদ যেমন জেলে যাবার ভয়ে অনুগত অবস্থায় ছিলো, ঠিক তেমনিভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএনপিকে বশে আনতে চায় সরকার। সে কারণেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে রাজি নয়।

বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে গেলে সরকারের চাপ দেওয়ার শেষ অস্ত্রটুকুও নষ্ট হয়ে যাবে। এই সমস্ত বাস্তবতায় বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দিতে রাজি নয় সরকার। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এ নিয়ে সরকারের ওপর কোন চাপও নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.