মায়ের কানের দুল বিক্রি করে পরীক্ষা দিয়েছিল, প্রথম বেতনেই সে দুল কিনে দিলো

আজ থেকে প্রায় ১২ বছর আগের কথা।আমি তখন কলেজে পড়ি। হ’ঠাৎ কলেজে’র ফরম ফিলাপে

বেশ কিছু টাকা দরকার প’ড়ে। বাবা স্কুলের একজন সাধারণ শিক্ষক ছিলেন। যে টাকা সম্মানী পেতেন তা দিয়ে

আমা’র আর আমা’র ভাইয়ের পড়াশোনা চালানো বেশ ক’ঠিন হয়ে পরে। আর যখন

কোন বিশেষ পরিমাণ টাকার দরকার পড়তো তখন জমি বিক্রি ছাড়া উপায় ছিলো না। আবার

জমিও যে খুব বেশি ছিলো তা নয়। টাকার খুব জ’রুরি দরকার। খুব ক্রাইসিস চলছিলো। বাবা অনেক চেষ্টা করেও

জমি বিক্রি ক’রতে পারলেন না। কিছুটা নিরাশ লাগলো বাবাকে। তাহলে কি এবার

আমা’র ছেলের ফরম ফিলাপ হবে না? বাবার চোখে মুখে বিষগ্নতা। ফরম ফিলাপ এর আর মাত্র

এক দিন বাকি। কি করা যায় তা ভেবে নিশ্চুপ আমা’র বাবা।হটাৎ আমা’র মা বাবার কাছে আ’সলেন আর

তার কান থেকে দুটো সোনার গহনা খু’লে বাবার হাতে তুলে দিলেন আর বললেন দ্রুত বিক্রি করে ফরম ফিলাপ ক’রতে। বাবা বিক্রি করে আমাকে টাকা দিলেন আর তার পরদিনই

আমি ফরম ফিলাপ করলাম। সে দিন মা তার শখের জিনিসগুলো অবলীলায় দিয়েছিলেন আমা’র ভবিষ্যতের জন্য।

আমি সে দিন সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছিলাম যে আমা’র মায়ের স্বপ্নের চাকুরীর প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মায়ের জন্য এ রকমই গহনা কিনে দিবো। তাই গত ০৩.০১.২০১৯ তারিখে ময়মনসিংহ থেকে প্রথম মাসের বেতন দিয়ে মাকে না জা’নিয়েই গহনা কিনে নিলাম।

মাকে বলিনি, কারণ বললে নি’শ্চিত না করতো। মা আমা’র হাতে তার সেই চির চেনা সোনার ঝুমকা দুল দেখেই কেঁ;দে ফেললেন। চোখ দিয়ে গড়িয়ে পানি পড়ছে। মা একটু আড়াল করেই তার চোখ মুছলেন।

আমি নিজ হাতে মাকে সেই দুল পড়িয়ে দেই। সে যে কি আনন্দ। এ এক পরম পাওয়া। এই অনুভূতি ভালোলা’গার অনুভূতি। আজ আমি আল্লাহর রহমতে জজ হয়েছি। আল্লাহ অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। আজ আল্লাহ আমা’র মায়ের সে স্বপ্ন পূরণ ক’রেছেন। লাখ লাখ শুকরিয়া তার কাছে।

আমি জানি এবং বিশ্বা’স করি কোন কিছুর বিনিময়ে মায়ের প্রতিদান দেয়া যায় না। শুধু নিছক কৃতজ্ঞতা জা’নানো ছাড়া। এই ধ’রণের ঘ’টনা প্রায় প্রতি মায়ের ক্ষেত্রেই ঘ’টে। তাই সব মা-দের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা আর সীমাহীন ভালোবাসা।

মায়ের অবদান অম্লান, অতুলনীয়, প্রতিদানহীন।মহান সৃষ্টিকর্তা সকল মা-কে সু’স্থ রাখু’ন আর যাদের মা চলে গেছেন সেই মা-দের শান্তিতে রাখু’ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.