শীতকালে খুশকি থেকে চুল বাঁচাতে যা করতে পারেন

শীতে ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে পড়ে। এই শুষ্কতা থেকেই সৃষ্টি হয় বিভিন্ন সমস্যা। অনেকের খুশকি বাড়ে যায় বহুগুণ। অনেকেই

চিন্তিত হয়ে ওঠেন, শীতকালে খুশকি থেকে চুল বাঁচাতে কি করবেন। তবে এ বিষয়ে রয়েছে কিছু পরামর্শ। চলুন জেনে নেই,

শীতকালে খুশকি থেকে চুল বাঁচাতে যা যা করা যেতে পারে।

ভালোভাবে চুল আঁচরান

শীতে চুলে একটু বেশি জট পাকে। আর আপনি যদি

কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে চুল আঁচড়ান, শেষমেষ ক্ষতি আপনারই হবে। মানে চুল উঠবে, মাথার ত্বকের ক্ষতি হবে। তাই ধীরে

চুল আঁচড়াতে হবে। একটু বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করা ভালো। ভালোভাবে চুল আঁচরালে খুশকি কম জন্মিাবে। তাই খুশকির কমাতে ভালোভাবে

চুল আঁচড়াতে হবে।

চুলে তেল দিন

শীতে ময়েশ্চারাইজার জরুরি। ভালো তেল দিয়ে মাথায় ম্যাসাজ করতে পারেন। নারকেল তেল ও

অলিভ অয়েল দারুণ কাজ করে। আপনি এতে নিম পাতা, কারি পাতা ও আমলকি যুক্ত করতে পারে। আমলকির রসের সঙ্গে

অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে লাগাতে পারেন। দেখবেন দারুণ কাজ করবে।

গরম পানিতে গোসল এড়ান

শীতে গরম পানি দিয়ে গোলস বারণ করাটা খারাপ হবে। তবু

আপনাকে তা করতেই হবে চুলের স্বার্থে। গরম পানি দিয়ে গোসল করলে চুল থেকে প্রাকৃতিক তেল ও ময়েশ্চার চলে যায়। তবে

মাথার ত্বক শুষ্ক ও নির্জীব হয়ে পড়ে। অবশ্য হালকা বা কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করতে পারেন।

নিয়মিত শ্যাম্পু করুন

শীতে শ্যাম্পু করার আগে চুলগুলো হালকা গরম পানিতে ভিজিয়ে নিন। এরপর

হাতের তালুতে একটু শ্যাম্পু নিয়ে তার চেয়ে একটু বেশি পরিমাণে পানি মিশিয়ে নিন। এবার শ্যাম্পুর মিশ্রণটা আলতো করে মাথার তালুতে লাগান। অনেকেই মাথার ত্বক আঙুল দিয়ে জোরে জোরে ঘষে পরিষ্কার করে থাকেন। এতে চুল পড়া যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। তেল দিয়ে শ্যাম্পু করার সময় অনেকের চুল থেকেই তৈলাক্ত ভাবটা দূর হতে চায় না। এ সময় চুলে শ্যাম্পু লাগিয়ে পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিলেই দূর হবে চুলের তৈলাক্ত ভাব। চুল ধোয়ার পর আলতো করে তোয়ালেতে মুছে নিন চুল।

মাথায় টুপি বা স্কার্ফ পরতে পারেন

দূষণ ও ধুলোবালি থেকে দূরে থাকুন। কারণ, তা চুলকে রুক্ষ ও নির্জীব করে দিতে পারে। চুলের সুরক্ষায় আপনি মাথা ঢেকে রাখতে পারেন। ঘরের বাইরে গেলে পরতে পারেন টুপি বা স্কার্ফ।

দিতে পারেন যেসব মিশ্রণ

নারকেল তেলের সঙ্গে একটু টকদই ও লেবু মিশিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি স্ক্যাল্পে ব্যবহার করুন। ১৫-২০ মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও এই মিশ্রণ ব্যবহার করুন। এছাড়াও ডিমের হলুদ অংশ দ্রুত মাথার খুশকি দূর করতে পারে। এজন্য ডিমের হলুদ অংশ ভালো করে ফেটিয়ে ব্যবহার করুন। দুদিন অন্তর এই উপায় অনুসরণ করলে দ্রুত খুশকি দূর হবে।

বেকিং সোডা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। ঠিক যেমন খুশকির সমস্যারও সমাধান করে বেকিং সোডা। বেকিং সোডা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় খুশকি তাড়ায়। এর কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।

মাউথওয়াশ দিয়েও খুশকি দূর করতে পারেন। এজন্য এক ভাগ মাউথওয়াশের সঙ্গে ৯ ভাগ পানি মিশিয়ে নিন। শ্যাম্পুর পরে এই মিশ্রণ চুলের গোড়ায় ঢেলে দিন। এরপর আর মাথায় পানি ঢালবেন না। দেখবেন ধীরে ধীরে খুশকি গায়েব!

স্বাস্থ্যকর খাবার খান

চুলের যত্নে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খান। স্বাস্থ্যকর চুল পেতে চাইলে পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন, যেমন ডিম, মিষ্টিকুমড়া, বেরি, গাজর, বিটমূল ইত্যাদি। মাংস ও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খান। এতে শরীর ও চুল, দুইই সুস্থ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.