বাড়িতে ঢুকেই তার প্রথম কাজ সন্তানকে কোলে নেওয়া, মেয়েটাকেও খাওয়ানো যাচ্ছে না: রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিদ্যাপীঠ কুয়েট। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের

অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে সম্প্রতি শান্তশিষ্ট এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘটে গেছে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সারাদেশে

এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এবার এই ঘটনাটি আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বললেন দেশের অন্যতম

জনপ্রিয় নারীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি লিখেছেন: বাড়িতে ঢুকেই তার প্রথম কাজ ছিল একমাত্র কন্যাসন্তানকে

কোলে তুলে নেওয়া। বাবা না এলে মেয়ে কখনও খেতো না। এখন যেহেতু বাবা নেই, তাই মেয়েটিকে কিছুতেই খাওয়ানো যাচ্ছে না। তার একটাই

আবদার, বাবা না এলে খাবে না সে। বলছিলাম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল ও

ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের কথা। খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মানুষটি শুধু নিজের মেধার জোরে পৌঁছেছিলেন আজকের অবস্থায়। ছেলেবেলায় বাবার সঙ্গে

ফল বিক্রি করতে হতো তাকে। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফলাফল করে কুয়েট থেকে পাস করে অস্ট্রেলিয়া থেকে পিএইচডি শেষে

দেশে ফেরেন তিনি। চাইলেই কিন্তু পারতেন অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতে। হয়তো সেটা করলেই ভালো হতো। অন্তত ৩৮ বছর বয়সে মর্মান্তিক মৃত্যু হতো না তার।

সম্প্রতি কুয়েটের লালন শাহ হলে ছাত্র আবাসিক হলের ডিসেম্বর মাসের খাদ্য-ব্যবস্থাপক (ডাইনিং ম্যানেজার) নির্বাচন নিয়ে, সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান প্যানেলের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার প্রচেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

ওই প্যানেলের সদস্যরা প্রভোস্ট ড. সেলিম হোসেনকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছিলেন, তাদের মনোনীত প্রার্থীকে নির্বাচিত করার জন্য। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ নভেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের একটি ক্যাডার গ্রুপ ক্যাম্পাসের রাস্তা থেকে ড. সেলিম হোসেনকে জেরা করা শুরু করে। পরে তারা শিক্ষককে অনুসরণ করে তার ব্যক্তিগত ঘরে (তড়িৎ প্রকৌশল ভবন) প্রবেশ করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা আনুমানিক আধঘণ্টা ওই শিক্ষকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। এর পরপরই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও অসুস্থ হয়ে যান।

পরবর্তীতে, শিক্ষক ড. সেলিম হোসেন দুপুরে খাবারের উদ্দেশে ক্যাম্পাসে তার বাসায় যাওয়ার পর বাথরুমে ঢোকেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার স্ত্রী লক্ষ করেন তিনি বাথরুম থেকে বের হচ্ছেন না। পরে, দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.