জমজ ৩ সন্তানের জন্ম, খাবার যোগাতেই হিমশিম বাবা-মা

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ার দরদ্রি পরিবারের গৃহবধু ববিতা বেগম (২২) এক মাস আগে

তিন ফুটফুটে জমজ ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। জমজ সন্তান হওয়ায় খুশিতে আত্মহারা পরিবারটি। কিন্তু

জন্ম হওয়ার মাস না যেতেই অসুবিধায় পরেন তারা। তিন নবজাতকের লালন পালন ও

চিকিৎসার নিয়ে বিপাকে পরেন। পরিবারটি নদী ভাঙনে সব হারিয়ে আশ্রয় নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলার

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের শাহাদত মেম্বার পাড়ায়। গৃহবধু ববিতার বেগমের স্বামী দিনমজুর মো. কিরণ মুন্সি যা আয় করেন তাতে

সংসার চলে না, তার মাঝে আবার জমজ তিন নবজাতক। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি। জমজ তিন নবজাতকের নাম রেখেছেন তামিম, তাসিন ও

তানজিল। জানা যায়, ববিতা-কিরণ দম্পতি নদীভাঙনের সব হারিয়ে শ্রয় নেন দৌলতদিয়া শাহাদাত মেম্বার পাড়া এলাকায়। সেখানেই

তিন শতাংশ জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলেন বসতি। দিনমজুরিসহ হরেক রকমের কাজ করে সংসার তারা। গত মাসের ৪ তারিখে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে জমজ তিন ছেলে সন্তানের জন্ম দেন গৃহবধু ববিতা। এর কিছুদিন পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলে মাসহ জমজ তিন ছেলেকে বাড়িতে আসেন কিরণ। এছাড়াও তাদের ৫ বছর বয়সী আরও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

বর্তমানে কিরণ দিনমজুরের কাজ করে জীবন নির্বাহ করেন। প্রতিদিন দিনমজুরের কাজ থাকে না। তিন জমজ শিশুসহ ৬ সদস্যের পরিবার চালানো অসম্ভ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন জমজ শিশুদের পেছনে ৭ থেকে ৮শ টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু দিন শেষে তার আয় মাত্র ৫শ টাকা। ফলে অসুবিধার মধ্যে দিন পার করছেন ববিতা-কিরণ দম্পতি।

প্রতিবেশীরা জানানা, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো যায় না। তার পর এক সঙ্গে ৩ জমজ সন্তানের জন্ম। যা আয় করে তা দিয়েও জমজ তিন শিশুর খাবারের টাকা হয় না। ওই তিন শিশুসহ পরিবারে ৬ জন সদস্য। কোনো সাহায্য সহযোগিতা পেলে বাচ্চাগুলো নিয়ে বাঁচতে পারবে তারা। গৃহবধু ববিতা জানান, জমজ তিন ছেলের হওয়াতে আমরা খুশি। কিন্তু দিনমজুরের কাজ করে তাদের খাবারসহ অন্যান্য খরচ চালাতে সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা পেলে তার সন্তানদের লালন পালন করতে পারতেন।

জমজ তিন শিশুর বাবা কিরণ জানান, জমজ তিন ছেলে সন্তান হওয়াতে তিনি খুশি। কিন্তু দিনমজুরের কাজ করে তাদের খাবারসহ অন্যান্য খরচ জোগাতে পারছেন না। কাজ করলে দিনে ৫শ টাকা পান। কিন্তু শিশুদের দুধ কিনতে লাগে ৬৫০টাকা। এরসঙ্গে অন্যান্য খরচসহ সাংসারিক খরচ রয়েছে। বর্তমানে তার চার সন্তানসহ ছয়জনের পরিবার। দিনমজুরের কাজ করে বাচ্চাদের লালন পালনসহ সংসারের খরচ মেটাতে পারছেন না তিনি। ফলে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুল হক খান বলেন, জমজ তিন শিশু আল্লাহর নিয়ামত। এই শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বাবা মায়ের দায়িত্ব অনেক। পরিবারটি দরিদ্র হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.